ঘড়ির বিজ্ঞাপন দেখলে কি কখনো চোখে লেগেছে – প্রায় সব ঘড়িতে সময় দেখানো হয় ১০:১০ ?
বিশ্বাস হচ্ছেনা? আমার ও হয়নি ঘটনাটা জানার পর। পরে গুগল করে দেখলাম ঘটনা সত্য, ওদের কাছে তথ্য আছে।
এত ব্র্যান্ড, এত মডেল, কিন্তু প্রায় সবার বিজ্ঞাপনে একই সময়। এটা কি কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে কোনো লুকানো মনস্তত্ত্ব আছে? আসলে আছে – এবং এটা যতটা সরল, ততটাই আশ্চর্য রকম বুদ্ধিদীপ্ত।
এই ১০:১০ টাইমের পেছনে কাজ করে pareidolia নামের একটা অদ্ভুত প্রবণতা – যেখানে আমাদের মস্তিষ্ক এলোমেলো জিনিসেও পরিচিত মুখ, ছবি আর প্যাটার্ন খুঁজে নেয়। ছোটবেলায় আমরা যেমন মেঘের দিকে তাকালে নানা ধরনের ছবি দেখতাম, চাঁদে বুড়ো মানুষ দেখতাম, আজ ইমোজি দেখে তৎক্ষণাৎ অনুভূতি বুঝে ফেলি – সবই এই একই প্রবণতার কারণে। আমাদের মস্তিষ্কে fusiform face area বা FFA নামে একটা অংশ আছে, যা মুখের মতো কিছু দেখলেই দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। সরল চিহ্ন বা ইমোজি তো আরও দ্রুত প্রোসেস হয়।
এবার আসল রহস্যটা – ঘড়িতে 10:10 সেট করলে কাঁটাগুলো দেখতে ঠিক একটি হাসিমুখের মতো লাগে। চোখ দুটো খোলা, নিচে নরম হাসি। FFA এই প্যাটার্নকে মুহূর্তে বুঝে ফেলে এবং সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় একটি পজিটিভ অনুভূতি তৈরি হয়। তাই বিজ্ঞাপনে এই সময় দেখালে ঘড়িটাকে আরও সুন্দর, পরিপাটি, এমনকি আরও প্রিমিয়াম লাগে। ছোট্ট এই ডিটেইলটাই আসলে স্মার্ট মার্কেটিং।

২০১৭ সালে Frontiers of Psychology জার্নালে একটা গবেষণা করা হয়। ২০টা ঘড়ি বিভিন্ন সময় সেট করে মোট ৬০টা ছবি তোলা হলো। ৩১ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারীকে যখন এসব ছবি দেখানো হলো, দেখা গেল – 10:10 সময়টিই সবচেয়ে বেশি আনন্দ এবং পজিটিভ রেসপন্স তৈরি করেছে। আর এটিই ছিল একমাত্র সময় যেটাকে মানুষ সরাসরি হাসিমুখ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
আমাদের অজান্তেই ঘটে যাচ্ছে কত কত মার্কেটিং ইনোভেশন আর সাইকোলজির খেলা। অথচ আমরা পড়ে থাকি এক ডলার খরচ করে কত টাকা রিটার্ন আসলো সেই হিসেবে নিয়ে। আফসোস…


