বছর খানেক আগে আমার শখ হলো, একটা লেদার ব্যাগ কিনবো ল্যাপটপ ক্যারি করার জন্য। চলে গেলাম বসুন্ধরা সিটি। বিভিন্ন দোকানে ঘুরছি। ব্রান্ডের দোকানগুলো প্রথমে দেখছিলাম। একটা ব্যাগ অনেক পছন্দ হলো, দাম ১২ হাজার টাকা।
একটু কম দামে কিনবো বলে নন ব্রান্ডের দোকান দেখতে লাগলাম। হুট করে একটা দোকানে আমার আগের পছন্দ হওয়া ব্যাগটার মত হুবহু একটা ব্যাগ পেলাম, দাম ৫,৫০০ টাকা। দুটোই made in China, একই মেটেরিয়াল, একই সেলাই। আমি কয়েকবার করে দুই দোকানে আসা যাওয়া করলাম আর ব্যাগ দুটোতে হাত বোলাতে লাগলাম।
ব্রান্ডের ব্যাগটাকেই কেন যেন বেশি ভালো লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো প্রিমিয়াম, এমনকি চামড়ার গন্ধটাও ভালো লাগছিল! ২টা ব্যাগই আইডেন্টিকাল হবার পরেও কেন এমন মনে হচ্ছিলো? আসলে আমার মস্তিষ্ক আমাকে ধোঁকা দিচ্ছিল।এর একটা নাম আছে- The Chivas Regal Effect.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্কটল্যান্ডে ‘Chivas Regal’ নামের একটা হুইস্কি ব্র্যান্ড ছিল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। সব ব্র্যান্ড দাম কমাচ্ছিল, আর ওরা উল্টো দাম দ্বিগুণ করে দিল। একই হুইস্কি, একই বোতল- শুধু দাম বদলেছে।
এরপরে এই বেশি দাম দেখেই মানুষ কিনতে লাগল পাগলের মতো।
কারণ, আমাদের মাথায় একটাই ফর্মুলা কাজ করে- ‘দামী মানেই ভালো।’
বাংলাদেশের অনেক প্রখ্যাত শাড়ির পেজ থেকে আমরা যে সুতির শাড়ি কিনি ৩ হাজার থেকে থেকে ৫ হাজার টাকায়, সেই একই শাড়ি কিন্তু একটু খুঁজলে নিউমার্কেট বা গাউছিয়াতে ১ হাজারের কমে পাওয়া সম্ভব।
তারপরেও আমরা দামীটাই কিনি? কেন?
কারণ আমাদের ব্রেইন সবার আগে দাম দিয়েই কোয়ালিটি বিচার করে।
যদিও বাস্তবে দুইটা একই জিনিস।
তাই আমরা দাম দেখে নিশ্চিন্ত হই, ভাবি- “দামী মানে নিশ্চয়ই টেকসই।”
কিন্তু সত্যিটা হলো- আমরা প্রোডাক্ট না, ব্রেইন এর ধোঁকায় ব্রান্ড এর গল্পটাই কিনে ফেলি।



