Quick Growth BD

যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন

যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন

যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন

যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন

২০০০ সাল। ইন্ডিয়াতে তখন নতুন করে পোলিও টিকা খাওয়ানো শুরু হয়েছে। শহরে মোটামুটি সাড়া থাকলেও গ্রামাঞ্চলে অন্য ছবি। টিকা কেন্দ্র খোলা, টিকা দেবার লোকজন প্রস্তুত, কিন্তু ভিড় নেই বললেই চলে।

আমরা যারা ৯০ দশকের, তাঁদের তখনকার বিটিভির সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন গুলোর কথা মনে থাকার কথা। টিকা দেয়া, গাছ লাগানো, প্রাথমিক শিক্ষা কতকিছু। ইন্ডিয়াতেও তেমনি এরকম বিজ্ঞাপন প্রচুর প্রচার হত। পোলিও টিকা নিয়ে ওদের সরকার তখন বড় বিজ্ঞাপন বানাল। সেখানে অমিতাভ বচ্চন নিজে এসে আবেগী কণ্ঠে বললেন, সন্তানদের অবশ্যই টিকা খাওয়াতে হবে। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, এত বড় একজন স্টার অনুরোধ করেও গ্রামের কেন্দ্রে কোনো পরিবর্তন হলো না। আগের মতই অবস্থা, যাচ্ছে না কেউ। 

তারপর সরকার একটু গভীরে গবেষণা শুরু করল। বিজ্ঞাপন কাজ করল না কেন? সমস্যাটা কোথায়? কনজিউমার বিহেভিয়ার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তারা বুঝল, গ্রামে সিদ্ধান্ত বাবা-মা নেন না, দাদা-দাদী বা নানা-নানীরা নেন। আর সেই প্রজন্ম অমিতাভকে দেখেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ইমেজে। তাদের কাছে তিনি আশির দশকের ইয়াং, মাচো নায়ক। আবেগী স্বরে অনুরোধ করা মানুষ হিসেবে তারা তাঁকে দেখে না। তাই বিজ্ঞাপন যত সুন্দরই হোক, মেসেজ যত সত্যই হোক, টোন যদি অডিয়েন্সের মাথার ভেতরের ইমেজের সাথে না মেলে, সেটা কোনো প্রভাবই ফেলবে না।

দুই-তিন বছর ধরে এই বিষয়টা বোঝার পর সরকার নতুন করে বিজ্ঞাপন বানাল। এবার অমিতাভ এলেন তাঁর সেই পরিচিত দৃঢ়, রাগী টোনে। সরাসরি বললেন, কী ব্যাপার, আপনারা কেন নাতি-নাতনিদের টিকা দিতে নিয়ে যাচ্ছেন না?

এই টোন, এই ইমেজ, এই ভয়টাই ঠিক দরকার ছিল। দাদা-দাদী আর নানা-নানীরা ভাবলেন, না, অমিত জি-কে তো আর ক্ষেপানো যাবে না।

আর ফলাফল? বিজ্ঞাপন প্রচারের পরের দিন থেকেই গ্রামের টিকা কেন্দ্রে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে গেল।

এই কেস স্টাডির লেসনটা খুব পরিষ্কার। টার্গেট অডিয়েন্স কে কী বলছি, সেইটা ম্যাটার করে। বিজ্ঞাপনে বড় মুখ বসালেই কাজ হয় না। মেসেজ কাকে বলা হচ্ছে, তারা ইনফ্লুয়েন্সারকে কীভাবে দেখে, তাদের মাথার ভেতরের ইমেজ কেমন, তারা কোন টোন গ্রহণ করে- এসব না ভাবলে সবচেয়ে শক্ত স্ক্রিপ্টও ব্যর্থ হয়। আর টোন যদি ভুল হয়, শক্তিশালী ইনফ্লুয়েন্সার থাকলেও মেসেজ ডেলিভার করে না।

আমাদের পার্সোনাল লাইফে ও একই কথা। যাঁদের সাথে কমিউনিকেট করছি, কীভাবে করছি সেটা মাথায় রাখা দরকার। তাঁরা আমাকে কীভাবে দেখেন সেটা অনুযায়ী কথা না বললে শান্তি/ সফলতা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে …

 

Related Posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top